সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন
রমজান: ওজন কমার বদলে বেড়ে যাওয়ার রহস্য!
পবিত্র রমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে স্বাভাবিকভাবে ওজন কমার কথা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেকের ক্ষেত্রে রমজান শেষে ওজন বেড়ে যায়! কেন এমন হয়?
মূল কারণ হলো খাদ্যাভ্যাসের অদ্ভুত পরিবর্তন।
রোজার সময় শরীরের গ্লুকোজ হোমিওস্টেসিস ও বিপাকক্রিয়া পরিবর্তিত হয়, যার ফলে ভিসেরাল ফ্যাট, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডস, কোলেস্টেরল ও ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এ কারণে কিছু মানুষের ওজন বাড়ে, আবার কিছু মানুষের ওজন কমে যায়।
গবেষণা বলছে, রোজার প্রথম ২ সপ্তাহে প্রায় ৪৮.৫ শতাংশ মানুষের ওজন বাড়ে। এর পেছনে মূলত কিছু ভুল অভ্যাস দায়ী:

রমজানের শেষ ২ সপ্তাহে প্রায় ২০ শতাংশ রোজাদারের ওজন গড়ে ২.৫-৫ কেজি কমে। কারণ:
১. একবারে বেশি না খেয়ে ছোট ছোট অংশে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। ২. উচ্চ ক্যালরির ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ৩. প্রতিটি বেলায় পরিমিত খাবার খেতে হবে, কোনো বেলা বাদ দেওয়া যাবে না। ৪. পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে (২.৫-৩ লিটার)। ৫. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে, যাতে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকে। ৬. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। ৭. সুষম খাবার— যেমন শাকসবজি, ফল, মাছ, মুরগি, ডিম ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করা জরুরি।
১. ইফতারে চিনিযুক্ত শরবতের বদলে ডাবের পানি, ইসবগুলের ভুসি বা হালকা ফলের জুস খান। ২. কম তেলে রান্না করা, চর্বিহীন খাবার গ্রহণ করুন। ৩. ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত একবারে বেশি না খেয়ে ধাপে ধাপে খান। ৪. রান্নায় কম তেল ব্যবহার করুন এবং বাইরের খাবার পরিহার করুন। ৫. প্রতিদিন ৩০-৬০ মিনিট দ্রুত হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। ৬. রাতে অন্তত ৫ ঘণ্টা এবং ফজরের পর ১-২ ঘণ্টা ঘুমান।

সুস্থভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ করে রোজা রাখতে চাইলে সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও পরিমিত শারীরিক পরিশ্রমের বিকল্প নেই। সম্ভব হলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ব্যক্তিগত ডায়েট চার্ট তৈরি করুন।